All news

সুদ ও সার্ভিস চার্জমুক্ত ক্ষুদ্র ঋণ পেলেন ৪৩২ সুবিধাবঞ্চিত নারী

বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের সুদমুক্ত ঋণ পেলেন ৪৩২ সুবিধাবঞ্চিত নারী

দিতে হয় না কোনো সুদ কিংবা সার্ভিস চার্জ, এমনকি লাগছে না কোনো জামানতও; তবুও মিলছে ঋণ। দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের এমন মানবিক উদ্যোগে গত দুই দশকে ভাগ্য বদলেছে হাজারো সুবিধাবঞ্চিত মানুষের। এরই ধারাবাহিকতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্চারামপুরে ৪৩২ জন সুবিধাবঞ্চিত নারীর মাঝে বিতরণ করা হয়েছে ৮০ লাখ টাকার সুদমুক্ত ঋণ। আর এই সহজ শর্তের ঋণ পেয়ে বাঞ্চারামপুর, নবীনগর ও কুমিল্লার হোমনাসহ বিভিন্ন উপজেলার ৩০ হাজারেরও বেশি দরিদ্র পরিবারে এসেছে সচ্ছলতা।

সোমবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্চারামপুরের ৪৩২ জন অসহায় নারী উদ্যোক্তা পেয়েছেন সুদ ও সার্ভিস চার্জ মুক্ত ক্ষুদ্র ঋণ যাদের প্রত্যেকের ওপর নির্ভর করছে একটি করে পরিবার। নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন থাকলেও আর্থিক অসচ্ছলতা বারবার তাদের পথ আটকে দিচ্ছিল। ঠিক সেই সময়টাতে তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে এগিয়ে এসেছে দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপ পরিচালিত বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন।

বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে ৮১ তম ঋণ বিতরণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই অসহায় নারীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ৮০ লাখ টাকার ঋণ সহায়তা। নারীদের হাতে ঋণের টাকা তুলে দেন বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম নাসিমুল হাই ও বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ময়নাল হোসেন চৌধুরী। ২০০৫ সাল থেকে পরিচালিত সুদমুক্ত ও জামানতবিহীন এই ঋণ প্রকল্পের জন্য শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্চারামপুরই নয়, নবীনগর ও কুমিল্লার হোমনারও হাজার হাজার পরিবার হয়েছে স্বাবলম্বী।

এম নাসিমুল হাই বলেন, এমন সুদ ও সার্ভিস চার্জমুক্ত ক্ষুদ্র ঋণ পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। বসুন্ধরা গ্রুপ আপনাদের সংসারে সচ্ছলতা আনার সুযোগ করে দিয়েছে। সঠিকভাবে এই টাকা কাজে লাগিয়ে নিজেরা স্বাবলম্বী হবেন এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা।

বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ট্রেজারার ময়নাল হোসেন চৌধুরী বলেন, সুদ ও সার্ভিস চার্জমুক্ত এমন ঋণ প্রকল্প পরিচালনা করে বসুন্ধরা গ্রুপ একটি বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। গত দুই দশকে হাজার হাজার পরিবার স্বাবলম্বী হয়েছে এই ঋণে। বসুন্ধরা গ্রুপের মাননীয় চেয়ারম্যান মহোদয় ও তাঁর পরিবারের জন্য দোয়া করবেন।

স্থানীয়রা জানান, শুধু ঋণই নয়; শিক্ষাবৃত্তি, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, প্রশিক্ষণসহ সেলাই মেশিন বিতরণ এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অনুদানের মাধ্যমেও বসুন্ধরা গ্রুপ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।

সোনারামপুরের নাজমা বেগম বলেন, ‘আজকে নিয়া দুইবার ঋণ পাইলাম। আগেরবার একটা পুরোনো রিকশা কিনছি, আমার স্বামী চালায়। এইবার টাকা নিয়া ব্যাটারি কিনতে হইবো। তাইলে রিকশাডা ভালা চলবো। এই ঋণ পাইয়া আমার খুবই উপকার হইছে। মাইনষের কাছে আর হাত পাততে হয় না।’

বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের এই সুদমুক্ত ঋণ কার্যক্রম শুধু আর্থিক সচ্ছলতাই আনছে না, গ্রামীণ নারীদের আত্মমর্যাদা বৃদ্ধিতেও রাখছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। চড়া সুদের ফাঁদ থেকে মুক্তি পেয়ে আজ নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে এই অসচ্ছল নারীরা। যার ফলে বদলে যাচ্ছে এখানকার গ্রামীণ অর্থনীতির চিত্রও।

SOURCE : বাংলাদেশ প্রতিদিন