Pre-loader logo

মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলে ব্যাগ প্লান্ট করবে বসুন্ধরা

মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলে ব্যাগ প্লান্ট করবে বসুন্ধরা

মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলে ব্যাগ প্লান্ট স্থাপনে শিকদার গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান পাওয়ারপ্যাক ইকোনমিক জোন (প্রাইভেট) লিমিটেড এবং বসুন্ধরা ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স লিমিটেডের (বিআইসিএল) ভূমি লিজ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

রোববার (২৮ জুন) দুপুরে হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও-এ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর এবং পাওয়ার প্যাক ইকোনমিক জোন (প্রাইভেট) লিমিটেডের গ্রুপ ডিরেক্টর জন হক শিকদার নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কর্মকর্তারা।

জানা যায়, বিআইসিএল তাদের নিজেদের প্রয়োজন মেটাবার জন্য ব্যাগ উৎপাদন কারখানা স্থাপনের লক্ষ্যে এ চুক্তির আওতায় অর্থনৈতিক অঞ্চল থেকে ১৬ একর জমি নিচ্ছে। এ কারখানা কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা পালন করবে।

বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর বলেন, ‘করোনা সংকটকালে এখানে আসার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। কাজ তো থেমে থাকবে না। কাজ চালিয়ে যেতে হবে। প্রাইভেট ইকোনমিক জোন মোংলায় আমরা ১৬ একর জায়গা নিয়েছি। সেখানে আমরা ব্যাগ উৎপাদন করব। এছাড়া আমাদের কিছু পরিকল্পনা আছে ওয়েল ডিপো করার জন্য।’

তিনি বলেন, ‘বেজার চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী সব সময় আমাদের সহযোগিতা করেন। আমাদের কয়েকটি ও অর্থনৈতিক অঞ্চল আছে। একটি কেরানীগঞ্জে আরেকটি চট্টগ্রামে। আরও বেশ কয়েকটি ইকোনমিক জোনের চেষ্টা করছি আমরা। আমরা সব জায়গায় ব্যবসার উন্নয়ন করব। ভালোভাবে যেন ব্যবসা করতে পারি এজন্য সবাই দোয়া করবেন।’

পাওয়ার প্যাক ইকোনমিক জোন লিমিটেডের গ্রুপ ডিরেক্টর জন হক সিকদার বলেন, ব্যাগ উৎপাদন কারখানা স্থাপনের জন্য মোংলায় পাওয়ার প্যাক ইকোনমিক জোনে ১৬ একর জমি নিচ্ছে বসুন্ধরা গ্রুপ। সেই লক্ষ্যে বসুন্ধরা গ্রুপের সঙ্গে চুক্তি সই করা হলো। আজকের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার জন্য বেজার চেয়ারম্যানকে বিশেষ ধন্যবাদ।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়্যারম্যান পবন চৌধুরী বলেছেন, বসুন্ধরা ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স লিমিটেড এবং পাওয়ার প্যাক ইকোনোমিক জোনের মধ্যে যে উদ্দেশ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হলো, তা বাস্তাবায়নের জন্য বেজার পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

পবন চৌধুরী বলেন, মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিবেশগত কারণে একটা সমস্যা ছিল। একটা মামলার কারণে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছিলাম। সরকার এরই মধ্যে সেখানে পলিসি ঘোষণা করেছে। লাল ক্যাটাগরির শিল্প ছাড়া বাকি শিল্প-কারখানা স্থাপন করা যাবে। সেখানে কাজ চলছে। মোংলায় বিনিয়োগের জন্য ডেভেলপার ও বিনিয়োগকারীর মধ্যে চুক্তি সই হল। এর মধ্য দিয়ে শিল্প স্থাপন আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। দু’টি প্রতিষ্ঠিত গ্রুপের মধ্য চুক্তি হলো, সবাইকে অভিনন্দন। যে উদ্দেশ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হলো তা বাস্তাবায়নে বেজার পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

বেজার নির্বাহী চেয়্যারম্যান বলেন, করোনায় সবকিছুতে প্রভাব পড়লেও অর্থনৈতিক জোনে গত তিন মাস ধরে উন্নয়ন কাজ চলছে। সবই অব্যাহত রেখেছি। বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর, যেটা সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক অঞ্চল সেখানে এখন দেশি-বিদেশি ঠিকাদাররা কাজ করছে। জমি উন্নয়ন চলছে। রাস্তার উন্নয়ন কাজ চলছে। শিল্প-স্থাপনের কাজ চলছে। শিল্প-কারখানা স্থাপনের যে কাজ চলছিল, সেটা অব্যাহত রয়েছে। করোনাকালে অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজে যেন ক্ষতি না হয় সেজন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।

তিনি বলেন, করোনার সময় জীবন ও জীবিকার মধ্যে যে দ্বন্দ্ব, অর্থনীতি সচল রাখার যে প্রয়াস দেখছেন, সেটার প্রতিফলন অর্থনৈতিক জোনের উন্নয়ন কাজেও দেখেছি। সরকার আপ্রাণ চেষ্টা করছে, যেন অর্থনীতির চাকা সচল রাখা যায়।

পাওয়ারপ্যাক ইকোনমিক জোন (প্রাইভেট) লিমিটেড দেশের প্রথম কোম্পানি যাকে ডিজাইন, বিল্ড, ফাইন্যান্স, ওয়োন, অপারেট ও ট্রান্সফার (নকশা, নির্মান, অর্থায়ন, মালিকানা গ্রহণ, পরিচালনা ও হস্তান্তর) ভিত্তিতে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার জন্য ৫০ বছরের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। বেজার সহায়তায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) মডেলে ২০৫ একর জমিতে অর্থনৈতিক মংলা অঞ্চল স্থাপন করা হয়েছে।

কৌশলগত অবস্থানের কারণে মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল বাংলাদেশের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল। এটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র বন্দরের মোংলা এক কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত। প্রস্তাবিত খান জাহান আলী বিমানবন্দর হচ্ছে অর্থনৈতিক অঞ্চল থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে।

পদ্মা সেতুর কাজ সম্পন্ন হলেও সড়ক ও রেলের মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যোগাযোগ বিবেচনায় সবচেয়ে সহজ হবে যোগাযোগ সময়ের বিবেচনায় সবচেয়ে সহজ হবে। যোগাযোগের সুবিধা মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল ও মোংলা বন্দরের চাহিদা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল শিল্প কারখানা স্থাপনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এখন এখানে বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে। এ অঞ্চলটি কাস্টমস বন্ডেড এলাকা হিসেবে বিবেচিত হয় এবং বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এখানে আনসার সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলের নির্মাণাধীন অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা মধ্যে রয়েছে প্রবেশ প্লাজা, উপাসনালয়, বাণিজ্যিক ব্যাংক, বীমা কোম্পানি, প্রশাসন ভবন, অগ্নিনির্বাপণ কেন্দ্র, গেস্ট হাউস, বিনিয়োগকারীদের ক্লাব, সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্ট, ডরমিটরি, দোকানপাট, ওয়্যারহাউজ, কাস্টমস, কেন্দ্রীয় বজ্য শোধনাগার এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ।

অর্থনৈতিক অঞ্চলটিকে পরিবেশ বান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার জন্য এখানকার মোট ভূমির ৩০% সবুজ বা উন্মুক্ত স্থান হিসাবে রাখা হয়েছে। বসুন্ধরা গ্রুপ সহ বহু সংখ্যক স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারী অর্থনৈতিক অঞ্চলে তাদের শিল্প কারখানা স্থাপনের আগ্রহ দেখিয়েছে। কৌশলগত অবস্থান ও ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বিবেচনায় এখানে বিনিয়োগে আগ্রহী স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছে পাওয়ার প্যাক ইকোনমিক জোন।

Copyright © 2020 Sayem Sobhan Anvir. All Rights Reserved.